বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” এবং অজানা কিছু কথা।

আচ্ছা বলুন তো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”, এটি কেন আর কিভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়ে গেল? সম্পূর্ণ এই গান বা কবিতার ২৫ চরন আমরা কেউ কি কখনো পড়েছি? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথা থেকে পেয়েছিলেন এই হৃদয়ছোয়া মিষ্টি গানের সুর? আর কুষ্টিয়ার ডাকপিয়ন গগন হরকরার সাথে জাতীয় সঙ্গীতের বা কি সম্পর্ক? বিশ্বে বাংলা ভাষা ভাষী এমন কোন মানুষ নাই যে জীবনে কখনও এই মন মাতানো মিষ্টি জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” শোনে নি বা পছন্দ করেন না। চলুন না, আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত সম্পর্কে আদ্যপান্ত জেনে নেই।

জাতীয় সংগীতের ইতিহাস ও জাতীয় সঙ্গীত রচনা



জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা ও গগন হরকরাঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জমিদারী কাজের জন্য ১৮৮৯ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ এবং শাহজাদপুরে থাকতেন, তখন তার সাথে সখ্য হয় স্থানীয় বাউল শিল্পী ও গীতিকার গগন হরকরার (গগন চন্দ্র সেন)। তিনি ছিলেন শিলাইদহ ডাকঘরের ডাকপিয়ন (তখনকার সময় ডাকপিয়ন কে হরকরা বলা হতো)। তার জন্ম শিলাইদহের নিকটস্থ আড়পাড়া গ্রামে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার বিশেষ অন্তরঙ্গতা ছিল এবং প্রায়ই দুজনে রসালাপ ও সঙ্গীত চর্চা করতেন, আবার মাঝে মাঝে দুজনে নৌভ্রমণেও বের হতেন।

রবীন্দ্রনাথ গগন হরকরার বাউল গানের বিশেষ অনুরাগী ছিলেন এবং “যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক” ও “আমার সোনার বাংলা” গান দুটি, গগন হরকরার যথাক্রমে “ও মন অসাড় মায়ায় ভুলে রবে” ও “আমি কোথায় পাব তারে” গান দুটির সুর থেকে রচনা করেন। যদিও গানটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি তাই এর সঠিক রচনা কাল নিয়ে মতভেদ আছে। ১৯০৫ সালে বঙ্গদর্শন এবং সঞ্জীবনী পত্রিকায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে ১৯০৬ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী চেতনা হতে কবিগুরু নিজেই এই কবিতায় সুর দিয়ে সোনার বাংলা কে গান হিসাবে প্রকাশ করেন।

 

আমার সোনার বাংলা কি ভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হলঃ

jatio songit – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত-সংকলন গীতবিতানের স্বদেশ অংশের প্রথম গান- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে অণুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদের জনসভায় আমার সোনার বাংলাকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অণুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়। এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।

 

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত-সংকলন গীতবিতানের স্বদেশ অংশের প্রথম গান- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। বাংলার সবুজ আর মনোরম প্রকৃতির এমন চমৎকার বর্ণনা আর প্রতিটা চরনের মাঝে লুকিয়ে থাকা দেশের প্রতি ভালোবাসার এমন বহিরপ্রকাশ কি অন্য কোথাও আছে? আর তাইতো স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি এই গানের প্রথম দশ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের নিয়ম হল গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত এর জন্য এবং গাইতে হবে শুদ্ধ উচ্চারণে।

শুদ্ধ জাতীয় সংগীত

ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন কর্তৃক পরিবেশিত জাতীয় সঙ্গীতের শ্রবণ নমুনা শুনতে পাবেন এখানে।



বাংলার জাতীয় সঙ্গীতে গর্ব বাঙ্গালীরঃ

জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বাঙ্গালী জাতি গর্ব করতেই পারে। চলুন দেখে নেই গর্ব করার মত তেমন কিছু চিত্রঃ

  • বিবিসির স্রোতা জরিপে এই গান জনপ্রিয় ২০ টি গানের মাঝে শ্রেষ্ঠ গান হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
  • ২০১৪ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতা দিবসের অনুস্থানে, একসাথে ২৫৪৫৩৭ জন মানুষ জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে।
  • ২০০৬ সালের বেইজিং অলম্পিকে অংশ নেয়া ২০৫টি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাঝে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ২য় স্থান লাভ করে। প্রথম হয় উরুগুয়ের জাতীয় সঙ্গীত।

জাতীয় সংগীত mp3 free download




Audio Download

জাতীয় সংগীত অডিও ডাউনলোড – যন্ত্র সংগীত

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে যন্ত্র সংগীতের audio donload করে নিন।

Music Track

 

জাতীয় সংগীত pdf ডাউনলোড




PDF Download

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি কবিতা

জাতীয় সংগীত (পাঠ)

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি ।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥

ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি ॥

কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে ।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে—
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি ॥

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি ।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥

জাতীয় সংগীত পুরোটা

 

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত-আমার সোনার বাংলা

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত-আমার সোনার বাংলা

জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম



জাতীয় সঙ্গীত অনুচ্ছেদ

 

গগন হরকরার সেই গান যার সুরে রচিত আমার সোনার বাংলাঃ

 

গগন হরকরার লেখা ও সুর করা সেই গান “আমি কোথায় পাব তারে”

 

 ভালোবাসায় মাখা জাতীয় সঙ্গীত- আমার সোনার বাংলা-

সবশেষে আমরা বলতেই পারি, এতো আবেগী আর শ্রুতিমধুর জাতীয় সংগীত সম্ভবত পৃথিবীতে আর কোন দেশের নাই । আর যেহেতু গগন হরকরার গানের সুর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার সোনার বাংলা গান টি রচনা করেছেন, তাই প্রিয় জাতীয় সঙ্গীতের সাথে বাঙ্গালী বাউল গগন হরকরা কে মনে রাখবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। তিনিও থাকুক আমাদের অন্তরে যতদিন থাকবে প্রিয় জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”।

ভারতের জাতীয় সংগীত

Audio Track

ভারতের জাতীয় সংগীত pdf ডাউনলোড




ভারতের জাতীয় সংগীত ডাউনলোড

পোস্ট টি ভাল লাগলে শেয়ার করে অন্যদেরকেও জানার সুযোগ করে দিন এবং আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ। Planet বাংলা – জগৎ জুড়ে বাংলা।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া এবং বাংলাপিডিয়া

Planet Bangla – সফল জীবন সহজ ভুবন।

 

প্লানেট বাংলার সকল আপডেট নিয়মিত পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

প্ল্যানেট বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও দেখতে আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

প্ল্যানেট বাংলায় প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টের আপডেট পেতে আমাদের টুইটার পেজ ফলো করুন